Ads

ছাত্র জীবনে যে ভূল কখনো করবেন না! কোন ভূলে ছাত্র জীবন অকালে ঝরে পড়ে? একটি সত্য ঘটনা'র মাধ্যমে জেনে নিনঃ-

 ছাত্র জীবনে যে ভূল কখনো করবেন না! কোন ভূলে ছাত্র জীবন অকালে ঝরে পড়ে? একটি সত্য ঘটনা'র মাধ্যমে জেনে নিনঃ-


ছাত্র জীবনের ভূল নিয়ে বি'ডি নিউজ ২৪ ইএন এর বিজ্ঞাপনের পাতায় প্রকাশিত একটি সত্য ঘটনা'র মাধ্যমে জেনে নিতে পারেনঃ-


➤ছাত্র জীবনে অতিরিক্ত প্রসংশা করায় ছাত্র জীবনে একজন আরেক জনের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে। 

➤বিশেষ করে, ছাত্র সম্পর্কে ছাত্রীর নিকট বা ছাত্রী সম্পর্কে ছাত্রের নিকট কোনো প্রকার প্রশংসা করা যাবে না।  

➤নিজ শিক্ষার্থী কে, অন্য কোনো শিক্ষার্থী'র থেকে ভালো রেজাল্ট করতে হবে বলে অতিরিক্ত মানসিক চাপ দেওয়া যাবে না, কারণ অন্য শিক্ষার্থীর প্রতি দূর্বল হয়ে পড়বে । 

➤অতিরিক্ত প্রাইভেট বা লেখাপড়ার চাপ দিয়ে কখনো নির্দিষ্ট করে বলবেন না যে,ঐ শিক্ষার্থী হতে ভালো কিছু ফলাফল যেন আশা করি। 


ছাত্র জীবনে প্রশংসার জেরে প্রেম ভালোবাসায় মগ্ন হয়ে পড়েন ছাত্র জীবনেই। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে নওগাঁ জেলা'র মহাদেবপুর থানাধীন চান্দা আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় এর ২০১৪—১৯ সনে । 


২০১৪ সালে অত্র স্কুল এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে সম'বয়সী মিঠু এবং রুম্মান ঐ স্কুলে ভর্তি হন। তবে মিঠু প্রাইমারী স্কুল জীবনে একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন।তখন লেখাপড়া নিয়ে এলাকায় তার একটা প্রসংশায় ভরপুর ছিলো। 


চান্দা আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির পর নিয়মিত স্কুলে যেতে থাকে মিঠু এবং রুম্মান। এরই কিছু দিন পর, মিঠু'র প্রাইমারী স্কুলের এক মেডাম এর সাথে দেখা। ( মিঠু'র প্রাইমারি স্কুলের মেডাম রুম্মান এর খালামুনি )  এমন সময় মেডাম কে সালাম দিতেই, মেডাম বলেঃ- ঐ স্কুলে আমার বোনের মেয়ে ভর্তি হইছে তুমি কি চিনো? নাম "রুম্মান" মিঠু বলে না মেডাম কেবল মাত্র ভর্তি হইছি। মেডাম বলে খোঁজ নিয়ে দেখ। 


এরপর স্কুলে মিঠু গিয়ে খোঁজ নেন, এবং রুম্মান এর সাথে পরিচয় হন। এভাবেই ১বছর কেটে যায়। ২০১৫ সালে দু'জনের মাঝে সম্পর্ক টা গভীরে আসতেই রুম্মান, মিঠু কে কথায় কথায় বলে এটা করলে, ওটা করলে গলায় দড়ি দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিবো। আর এই কথাটার দাঁড়া মিঠু'র দূর্বলতার সুযোগ। মিঠু ভাবতো আমার জন্য একটা মেয়ে কেন নিজেকে শেষ করবে?  এমনটা ভেবেই মিঠু রুম্মান এর কোন কথা অমান্য করে না। 


মিঠু'র বন্ধুদের সহযোগিতা আর ভাবনা অন্য কোন মেয়েকে বিরক্ত করলে রুম্মান হয়তো আমাকে খারাপ ভেবে আমার থেকে দূরে সরে দাঁড়াবে। কিন্তু না, সম্ভব না। 


এভাবেই ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষা দিলাম। রেজাল্ট ৪.৭৫ পেয়েছিলাম। দেখতে দেখতে ২০১৭ সালটাও পেরিয়ে গেলো। 


২০১৮ সালে দু'জনের মাঝে সম্পর্ক টা এতোটায় গভীরে আসে, কিছুই বোঝে না। কিন্তু রুম্মান এর জেড এর কাছে মিঠু অসহায়, কারণ মিঠু রুম্মান এর কোন কথায় অনীহা বা রাজি না হলে ই,রুম্মান কান্না করে মিঠু কে বলতো, আমি নিজেকে শেষ দিবো,মরে যাবো,কাল থেকে স্কুলে দেখতে পাবি না।

 মিঠু তাকে এটো কিছুর মাঝে রুম্মান কে বলে আমি মিঠু গরিবের ছেলে, একবার ভেবে দেখো। রুম্মান তখনও কান্না করে বলে আমাকে তিন বেলা ভাত দিতে না পারলে,দু'বেলা তো ভাত দিতে পারবি। 

এমনই ভাবে রাত প্রায় দেড় টা পর্যন্ত মেসেজে মিঠু কে বোঝাতে থাকে। যে,তুমি আমাকে ভালো না বাসলে আত্নহত্যা করবো,গলায় দঁড়ি দিয়ে মরে যাবো,বিষ খাবো, নিজেকে শেষ করে দিবো, কাল থেকে আমাকে আর স্কুলে দেখতে পাবি না। বলে আর কান্না করে। 


মিঠু'র ভাবনা আর চিন্তা, রুম্মান এর আবেগের কাছে হার মেনে যায়। এই দিন টা থেকেই মিঠু রুম্মান কে বিশ্বাস করতো,দু'জন দু'জন কে না বলে কোথাও যেত না,কিছু খেত না,প্রত্যেক টা রাত কথা না বলে ঘুমাইতো না,এমন কোন সকাল ছিলো না যে গুড মর্নিং মেসেজ টা আসে না,এমন কোন রাত ছিলো না যে, গুড নাইট মেসেজ আসে নি। 


এমন কিছু দিন রুম্মান তার আত্নীয় বাড়ি বেড়াতে যায়, সেই রাত টা তার খুব জেড সারা রাত কথা বলবে! প্রায় রাত ১টার পর মেসেজে কথা বলতে বলতে মিঠু ঘুমিয়ে পড়ে,প্রায় রাত ৩টার দিকে ঘুম ভেঙেই মিঠু মেসেজ দেখে যে, ❝আর কথা বলবি না,আমি কিন্তু আর কোনো দিন ও কথা বলবো না,নিজেকে শেষ করে দিবো, আমাকে আর কোন দিনও পাবি না ❞এমন টা মেসেজ দেখে মিঠু রুম্মান কে ফোন দেয়, এবং তাকে বোঝায় যে,আমি ঘুমিয়ে গেছিলাম। (.......)


এমন পাগলামো তে কেটে যায় ২০১৮ সাল। ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার মাঝেই রুম্মান এর বাড়ির পাশে ওয়াজ মাহফিল, এমন সময় রুম্মান বলে,আজকে আমাকে চুমু খেতে পারলে পারবি! তার বাড়ির পাশে রাস্তায় আসতে বলে,এমন সব পাগলামিতে এসএসসি পরীক্ষা পেরিয়ে গেলো। 


এরপর এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলো, মিঠু বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.৬৭ পেয়েছে এবং রুম্মান মানবিক বিভাগ থেকে ৪.৬৭ পেয়েছে। 


রেজাল্ট বের হবার কিছুদিন পর রুম্মান হঠাৎ করে মিসড কল দেয়। মিঠু কে বলে,শুন আতীতের সব কিছু আমার ভূল ছিলো, তুই আমাক ভূলে যা! আমি তোকে কখনো কোনো দিন মন থেকে ভালোবাসি নি! 

রুম্মান কান্না করে আর বলে, শুন আমার খালামুনি তোকে নিয়ে এতো এতো পরিমাণ প্রসংশা করেছে,তা বলে বোঝাতে পারবো না। আমি ভাবছিলাম আমি তোর সাথে এভাবে অভিনয় করলে তুই আমার থেকে লেখাপড়াই অনেকটা পিছিয়ে পড়বি আর আমি ভালো রেজাল্ট করে,আমার খালামুনিকে দেখাবো যে তার মেধাবী ছাত্রের থেকে ভালো রেজাল্ট করেছি।


কিন্তু এতো গুলো দিনে মিঠু নিজেকে রুম্মান এর মাঝে হারিয়ে ফেলেছে। রুম্মান কে যে কতটা বিশ্বাস করেছে তা আল্লাহ ছাড়া হয়তো কেউ জানে না। এভাবেই রুম্মান কথা বলা বন্ধ করে দেয়।

 হতাশাগ্রস্থ মিঠু ২০১৯ মার্চ/এপ্রিল থেকে ২০২০ফেব্রুয়ারি/মার্চ প্রায় এক বছর পাগলের মতো নেশা করে। ২০২০ মার্চ থেকে নেশা করা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। কিন্তু এর মাঝে কিছু স্মৃতি রয়ে গেছে। ২০১৯ মার্চ/এপ্রিল থেকে ২০২০ফেব্রুয়ারি/মার্চ প্রায় এক বছরে মিঠু তার নিজের হাত নিজেই কেটে রুম্মান এর নাম লিখে। 


তবে কিছু দিন পর এই লেখা মিশে গেলে তখন বুকের উপর চামড়া কেটে ট্যাটু করে রুম্মান এর নাম লিখে নেয়। এসব আজ শুরু স্মৃতি।


 এরপরও মিঠু রুম্মান এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে,ফোন দিলে তার মায়ে ধরে এবং ছোট্ট লোক ফকিন্নি থেকে শুরু করে যতদূর সম্ভব গালি দেয়। এমতাবস্থায় একপর্যায়ে বলে তার জীবনের সব টাকা পয়সা দিয়ে হলেও মিঠু কে মেরে ফেলবে!  


তবে বিধির বিধান - রুম্মান তার খালামুনিকে দেখাতে চাইছিলো,মিঠু'র থেকে ভালো রেজাল্ট করে। কিন্তু তা সম্ভব হয় নি। এক পয়েন্ট ও বেশি পায় নি। 


অন্য পোস্ট— অ্যাডসেন্স আবেদনের আগে কোন কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিবেন?ব্লগ সাইট অ্যাডসেন্স এর উপযোগী কিভাবে করবেন? ব্লগ সাইটে ভিজিটর বেশী না আসলে কি করবেন?


অন্য পোস্ট - বাংলাদেশ থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনুন এবং বিকাশ নগদ রকেট এর মাধ্যমে পেমেন্ট করুন। 


আরও পড়ুন — কি ভাবে মেসেঞ্জার অ্যাপ থেকে ফেসবুক আইডি লগআউট করবেন? 




Post a Comment

0 Comments